A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: newsPosition

Filename: models/Write_setting_model.php

Line Number: 188

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Write_setting_model.php
Line: 188
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 32
Function: home_category_position

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Invalid argument supplied for foreach()

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 168

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 168
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 48
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: cat_list

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 172

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 172
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 48
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: implode(): Invalid arguments passed

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 172

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 172
Function: implode

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 48
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined offset: 1

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 17

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 17
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 173
Function: page_data_for_home

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 48
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Invalid argument supplied for foreach()

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 168

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 168
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 51
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: cat_list

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 172

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 172
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 51
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: implode(): Invalid arguments passed

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 172

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 172
Function: implode

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 51
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined offset: 1

Filename: models/Home_model.php

Line Number: 17

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 17
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Home_model.php
Line: 173
Function: page_data_for_home

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Article_controller.php
Line: 51
Function: home_data

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

সুন্দরবনের বাঘের জীবনে অসুন্দর জোয়ার-ভাটা
No icon

সুন্দরবনের বাঘের জীবনে অসুন্দর জোয়ার-ভাটা

বছর তিনেক আগের ঘটনা। সময়টা তখন আষাঢ় মাস। ঘোর বর্ষাকাল। পড়ন্ত বিকেল। সন্ধ্যা দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। পুরোপুরি আঁধার নেমে আসেনি। কিন্তু নদীতে জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। নদী-খালের কূল ছাপিয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে সুন্দরবনের ভেতর।

এ সময় ট্রলারে আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর পাড় ঘেঁষে সুন্দরবনের গহিনে যাচ্ছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দা সালাউদ্দিন বাপ্পী। পেশায় সাংবাদিক, পর্যটনের ব্যবসাও করেন। তাই সঙ্গী ছিলেন আরও কয়েকজন। সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুরুলিয়া এলাকায় আসার পর সালাউদ্দিন বাপ্পীর দৃষ্টি চলে যায় নদীর কূলে, একটি বাইনগাছের দিকে। গাছটি অর্ধেক পানিতে ডুবে গেছে। পাতাসহ কিছু ডাল তখনো জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়নি। নদীকূলে যখন পানি তোড়, ঠিক তখন সালাউদ্দিন বাপ্পী দেখতে পেলেন, বাইনগাছটির ঝুলে পড়া একটি ডাল নড়াচড়া করছে। এবার দৃষ্টি স্থির করেন তিনি। দেখতে পেলেন একটি বড় বাঘ মাথা উঁচু করে ডালটি ধরে আছে। তার শরীরের বাকি অংশ ডুবে আছে পানিতে।

প্রথম আলোকে সালাউদ্দিন বাপ্পী জানান, আঁধার নেমে পড়ায় ট্রলার ঘুরিয়ে চলে যান তিনি। তাই বাঘটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সেটা আর জানা হয়নি তাঁর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে সুন্দরবনে। পূর্ণবয়স্ক বাঘগুলো কোনোভাবে বেঁচে গেলেও বাঘের অনেক বাচ্চা জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। বৈরী প্রকৃতির সঙ্গে এভাবেই সংগ্রামী জীবন চালিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের বাঘ বেঙ্গল টাইগার। একদিকে বৈরী প্রকৃতি, অন্যদিকে শিকারি অথবা বাঘ থেকে বাঁচতে তৎপর সাধারণ মানুষ—এ সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় সুন্দরবনের বাঘকে। পেশার টানে সুন্দরবনের গহিনে রোজ যাঁদের যাতায়াত, এমন কয়েকজন বনজীবীর কাছ থেকে জানা গেল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সুন্দরবনে ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে ৩৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়লে জনতা পিটিয়ে ১৪টি বাঘকে মেরে ফেলে। চোরা শিকারিদের হাতে মারা গেছে ১০টি বাঘ। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে মারা যায় একটি বাঘ। এ ছাড়া ১০টি বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। 

চোরা শিকারিদের ফাঁদে পড়ে পেছনের ডান পায়ের অর্ধেক হারিয়ে খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় এই বাঘিনী। ১৪ জানুয়ারি, ২০১২। ছবি: সালাউদ্দিন বাপ্পীর সৌজন্যেচোরা শিকারিদের ফাঁদে পড়ে পেছনের ডান পায়ের অর্ধেক হারিয়ে খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় এই বাঘিনী। ১৪ জানুয়ারি, ২০১২। ছবি: সালাউদ্দিন বাপ্পীর সৌজন্যেজোয়ারের সঙ্গে বাঁচা-মরা
বনজীবীদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে মারা যাচ্ছে বাঘ। সুন্দরবনের নদীগুলোয় প্রতিদিন জোয়ার আসে দুবার। এরপর ভাটা। ছয় ঘণ্টা পরপর জোয়ার-ভাটার আসা-যাওয়ায় মাঝে চলে বাঘ-হরিণ-বানরের নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম। তবে বৈরী প্রকৃতির ঝাপটা বেশি ভোগায় বাঘগুলোকে। কারণ, হরিণগুলো চলে দল বেঁধে। বানরও চলাচল করে থাকে দল বেঁধে। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ার অন্যতম কারণও প্রকৃতির আচরণ। জোয়ারের সময় একটি বাঘ নিজেকে বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকে। তবে দুর্ভোগ বেশি থাকে বাঘিনীর কপালে। একটি বাঘিনী অনেক সময় চারটি পর্যন্ত বাচ্চা জন্ম দিয়ে থাকে। জোয়ার এলে বাঘিনীরা নিজেকে রক্ষা করে। বড়জোর তার একটি বাচ্চাকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু পানির তোড়ে ভেসে যায় অন্য বাচ্চারা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী এলাকার ওজিয়ার রহমান মোড়ল সুন্দরবনে বাঘের দেখা পেয়েছেন প্রায় ১০০ বার। বনজীবী এই মানুষকে সপরিবারে বাঁচিয়ে রেখেছে সুন্দরবন। তাই বনের প্রতি ওজিয়ার মোড়লের ভীষণ দরদ। বন্য প্রাণীর মধ্যে বাঘের প্রতি বেশি মায়া।

ওজিয়ার মোড়ল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবন না থাকলি বাঁচতি পারতাম না। মাছের সময় মাছ, মাছ না পালি কাঁকড়া ধরি। কাঠ কাটি, না হয় মধু ভাঙ্গি আমাগের পেট চলে। আর বাঘ না থাকলি সুন্দরবন থাকবি না। বাঘ না থাকলি মাছ, কাঠ আর মধুও থাকবি না। তবে জোয়ারের তোড়ে বনের পাহারাদার বাঘের কত বাচ্চা যে ভাইস্যে যায়, তার হিসাব নেই।’

ওজিয়ার মোড়ল জানান, জোয়ার আসার আগে বাঘ বুঝতে পারে। নদী বা খালের ধারে অথবা বনের ভেতর বাঘের পায়ে পানি লাগলেই দ্রুত হাঁটা শুরু করে। অনেক সময় দেখা যায়, বাঘ নদীর পাড় ধরে সোজা হাঁটছে। সেটি জোয়ার আসার সময়ই হয়ে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে বাঘ উঁচু জায়গার খোঁজ করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় জোয়ারে পানি এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে বাঘ আর ডাঙায় উঠতে পারে না। তখন সে জোয়ারের পানিতে সাঁতার কাটতে শুরু করে। এ সময় বড় কোনো গাছের ডাল পেলে গলা উঁচু করে বাঘ। দুটি ডালের মধ্যে আটকাতে পারলে বাঘ কয়েক ঘণ্টা ঝুলে থেকে নিজেকে রক্ষা করে। একই কায়দায় হরিণগুলোও নিজের প্রাণ বাঁচায়।

সর্বশেষ এমন ঘটনা এ বছর মে মাসে দেখেছিলেন ওজিয়ার মোড়ল। তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটেছিল সুন্দরবনের কলাগাছি এলাকা থেকে তিন মাইল দূরের একটি খালে। খালটির নাম বাদুড়ঝুলি। দুপুরবেলা ওজিয়ার সঙ্গীদের নিয়ে নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন। জোয়ারের পানি খুব দ্রুত বাড়ছিল তখন। এ সময় বাদুড়ঝুলি খাল থেকে কিছু দূরে জঙ্গলেও জোয়ারের পানি চলে আসে। সেই স্রোতের মধ্যে মাথা উঁচু করে যাচ্ছিল একটি বাঘ। সঙ্গে ছোট একটি বাচ্চাও ছিল। বাঘটি একসময় গাছের ডাল ধরে রক্ষা পায়। কিন্তু বাচ্চাটি ভেসে দূরে চলে যায়।

বনজীবীরা জানান, জোয়ার-ভাটা ছাড়াও বাঘগুলোকে বেশি ভুগতে হয় বর্ষাকালে। জ্যৈষ্ঠ মাসে জোয়ারের পানি বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বাড়ে। আশ্বিন পর্যন্ত এর রেশ থাকে। জলোচ্ছ্বাসের সময় তো দুই-তিন দিন পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায় সুন্দরবন।

সুন্দরবনের গহিন জঙ্গলে রাতের আঁধারে বেঙ্গল টাইগার। ছবি: মনিরুল এইচ খানের সৌজন্যেসুন্দরবনের গহিন জঙ্গলে রাতের আঁধারে বেঙ্গল টাইগার। ছবি: মনিরুল এইচ খানের সৌজন্যেভাটার সময় শিকারিদের খপ্পরে
সুন্দরবন জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেলে গাছের ডাল ধরে বেঁচে থাকার লড়াই করে বাঘেরা। জোয়ার শেষে ছয় ঘণ্টা পর আসে ভাটা। তখন শুরু হয় বাঘগুলোর খাবার খোঁজার পালা। তাই শিকার বা খাবারের সন্ধান করতে একটি বাঘের প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় মেলে না। এ সময়ের মধ্যে শিকার, আহার ছাড়াও বাসস্থানের সন্ধান করতে হয় বাঘটিকে।

ভাটা শেষে ছয় ঘণ্টা পর শুরু হয় আবার জোয়ার। তবে ভাটার সময় চলে চোরা শিকারিদের সঙ্গে বাঘের লড়াই। ২০১২ সালে এমনই এক ঘটনায় পা হারিয়েছিল একটি বাঘিনী। ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় এক পা কাটা অবস্থায় এই বাঘিনী সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি গ্রামের একটি ঘরে অতর্কিতে ঢুকে পড়ে। বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও বন্য প্রাণী ট্রাস্টের কর্মীরা সেখানে পৌঁছান। ট্রাঙ্কুলাইজারগানে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে বাঘিনীকে অচেতন করা হয়।

ধারণা করা হয়, চোরা শিকারিদের ফাঁদে বাঘিনীটির ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কাটা পড়েছিল। উদ্ধার শেষে বন বিভাগের কর্তারা বাঘিনীকে প্রথমে ঢাকায়, পরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠান। এভাবে বছর দেড়েক কাটানোর পর ২০১৩ সালের ২৪ মে এই বাঘিনীকে আনা হয় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। তখন থেকে পাঁচ বছরের বেশি সময় একাকী জীবন কাটাতে হয়েছিল তিন পায়ের এই বাঘিনীকে। এ বছর ১ এপ্রিল মারা যায় বাঘিনীটি।

কিন্তু বন্দিজীবনে বাঘিনীকে ডান পায়ের কাটা অংশ নিয়ে কী অসহ্য যন্ত্রণাই না সহ্য করতে হয়েছিল। সেটির পুরোনো ক্ষত বারবার ফিরে আসত। সেই ক্ষতস্থান থেকে আবারও রক্ত ঝরত। এ বছর মার্চ মাসে নিঃসঙ্গ ঘোচাতে আরেকটি বাঘের সঙ্গে রাখা হয় তিনপেয়ে বাঘিনীকে। কিন্তু ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ঝরায় চিকিৎসার প্রয়োজনে এই বাঘিনীকে ট্রাঙ্কুলাইজারগান দিয়ে অচেতন করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের কৌশলগত ভুল থাকায় অচেতন বাঘিনীকে আক্রমণ করে বসে ওই পুরুষ বাঘ। পরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সুস্থ না হয়ে মারা যায় এই বাঘিনী।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে প্রাণ হারায় এই বাঘ। পরে পাচারকারীরা বাঘটির দাঁতও তুলে নিয়ে যায়। নভেম্বর, ২০০৭। ছবি: জিয়া ইসলামঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে প্রাণ হারায় এই বাঘ। পরে পাচারকারীরা বাঘটির দাঁতও তুলে নিয়ে যায়। নভেম্বর, ২০০৭। ছবি: জিয়া ইসলামসুন্দরবনের বাঘ বিশ্বের সবচেয়ে সংগ্রামী!
বিশ্বের কোথাও বনের বাঘকে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের মতো অসহায় জীবন যাপন করতে হয় না। বেঁচে থাকার জন্য বেঙ্গল টাইগারকে কঠিন জীবনসংগ্রাম করতে হচ্ছে বলে মনে করেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ডোরাকাটা বাঘ বা প্যানথেরা টাইগ্রিসের আটটি উপপ্রজাতির মধ্যে কাসপিয়ান টাইগার, জাভান টাইগার ও বালি টাইগার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে অস্তিত্ব রয়েছে পাঁচটি উপপ্রজাতির বাঘের। এগুলো হলো বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার ও ইন্দো চাইনিজ টাইগার। এদের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হচ্ছে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারগুলোকে। একদিকে বৈরী প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। প্রকৃতি শান্ত হলে এদের লড়তে হয় চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে।

বন বিভাগের ২০১৫ সালে দেওয়া তথ্য অনুসারে, এমন সব পরিস্থিতির মধ্যে সুন্দরবনে টিকে রয়েছে ১০৬টি বাঘ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বের যে পাঁচ প্রজাতির বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে, এর মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থানে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ চীন এবং এর আশপাশের বনাঞ্চলে বসবাসকারী সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার ও ইন্দো চাইনিজ টাইগার। এই প্রজাতির বাঘগুলোর জীবনের ঝুঁকির মাত্রা কম। তাই ওরা কিছুটা ভালো অবস্থায় রয়েছে। কারণ, এসব অঞ্চলে কোথাও ঘন বন রয়েছে, কোথাও-বা ফাঁকা বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এসব বনের ভেতর বয়ে চলা নদী-খালগুলোয় জোয়ার-ভাটার প্রভাব তেমন একটা পড়ে না। তাই প্রকৃতিরও বৈরী হয়ে ওঠার সুযোগ কম মেলে।

অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, উত্তরে সাইবেরিয়ান টাইগারকে প্রকৃতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এই বাঘগুলোর শীতের সময় শিকার কম মেলে। কিন্তু সাইবেরিয়ান টাইগারের সুবিধা হলো, এরা জনমানবহীন বনাঞ্চলে বিরাট এলাকাজুড়ে বসবাস করে থাকে। তাই সাইবেরিয়ার বনে মানবসৃষ্ট ঝুঁকিও কম রয়েছে। কিন্তু সুন্দরবনের বাঘের বছরজুড়েই প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট ঝুঁকির সঙ্গে লড়তে হয়।

বেঙ্গল টাইগারকে সুন্দরবনে বসতি গড়ে তুলতেও লড়তে হয়েছে। একসময় পুরো বাংলাদেশেই দেখা যেত এই প্রজাতির বাঘগুলো। এমনকি বনজঙ্গলে ভরা ঢাকা বিভাগেও দেখা মিলত ডোরাকাটা বেঙ্গল টাইগার। বন বিভাগসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের টেলকি-রসুলপুর এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ১৯৬৪ সালে একটি বেঙ্গল টাইগার মারা যায় শিকারিদের হাতে। এরও প্রায় ১০ বছর আগে ১৯৫৪ সালে বর্তমানে সাভার উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার (তখন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি) ভেতরে ফাঁদ পেতে একটি বেঙ্গল টাইগারকে হত্যা করেছিল এলাকাবাসী। জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকা ঘন জঙ্গল ছিল। এই এলাকার পাশে সাভারের বংশী নদীর তীরে মানুষের বসতি ছিল। বনে ঘাস থাকায় বংশী নদীর পাড় থেকে লোকজন গরু-ছাগল নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে আসতেন ঘাস খাওয়াতে। কিন্তু বাঘেরা এসব গরু-ছাগল শিকার করত। তাই মাটিতে গর্ত করে ফাঁদ পেতে এলাকাবাসী বাঘ হত্যা করতেন। সবশেষ এখানে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৪ সালে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০টির মতো বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। ২০০৬ সালে সিলেটের লাঠিটিলা বনে সবশেষ বেঙ্গল টাইগার দেখা গিয়েছিল। 

বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানান, খাদ্যাভাবে পড়ে বেঙ্গল টাইগার দেশের দক্ষিণ দিকে সুন্দরবনে আবাস গড়ে তোলা শুরু করে। কয়েক শ বছর আগে এখানে তাদের বসবাস শুরু হয়।

ইনাম আল হক প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনে থাকার জন্যও লড়তে হয়েছে বেঙ্গল টাইগারকে। কোনো প্রজাতির বাঘ লোনা পানি পান করে না বা এই পানি পান করে বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারই একমাত্র বাঘ, যারা লোনা পানি পান করে থাকে। এই অভ্যাস তো সুন্দরবনে এসেই ওদের গড়ে তুলতে হয়েছে। এর সঙ্গে বৈরী প্রকৃতি তো আছেই। তাই সুন্দরবনের বাঘকে বিশ্বের সবচেয়ে সংগ্রামী বাঘ বলা যেতে পারে।

প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সুন্দরবনের বাঘ সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু ও সংগ্রামী। ওদের এবং হরিণের জন্য আমরা মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করেছি। এ জন্য বনে রেঞ্জ ও বিট অফিসগুলোর পাশে পুকুর খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া উঁচু জায়গা করা হয়েছে, যাতে করে পানি বৃদ্ধি পেলে বাঘ ও হরিণেরা সেখানে থাকতে পারে।’

সূত্রঃ প্রথম আলো 

 

Comment