No icon

পাহাড়ে উচ্ছেদ, বিক্ষোভের মুখে পিছু হটেছে প্রশাসন

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটেছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। আজ বুধবার নগরের মতিঝর্ণা এলাকার বাটালি হিলের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অসমাপ্ত রেখেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা। ৩০ থেকে ৪০টি ঘরের চালা কেটে দেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসিন্দারা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা জোরগলায় বলতে থাকেন, রোহিঙ্গারা যদি পাহাড়ে বসতি গড়ে থাকতে পারে, আমাদের উচ্ছেদ কেন? ২০ থেকে ৫০ বছর ধরে তাঁরা এখানে থাকলেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন।

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, জেলা প্রশাসনের ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাটালি হিলের পাদদেশের বসতিতে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ছিলেন।

একপর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে নিয়োজিত শ্রমিকেরা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘরের চালা কাটতে শুরু করেন। চালাগুলোতে দা ও কুড়াল দিয়ে বড় বড় ছিদ্র করে দেন। যাতে বাসিন্দারা চলে যান। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মারমুখী আচরণ শুরু করেন এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ ও কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে যান।

মো. শাহজাহান নামের এক বাসিন্দা দাবি করেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি এখানে বসবাস করছেন। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। আজ প্রশাসনের লোকজন এসে টিন কেটে দেন। এতে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।

এভাবে বিক্ষোভের মুখে পিছু হটে যান ম্যাজিস্ট্রেটরা। প্রায় দু-তিন শ নারী-পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটদের পেছন পেছন তাঁদের গাড়ির দিকে যেতে থাকেন। এ সময় এক ম্যাজিস্ট্রেটের গায়ে ধাক্কাও দেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, বাসিন্দারা পরিকল্পনা করেই এই বিক্ষোভ করেছেন। পেছনে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে। তারা নারীদের সামনের দিকে দিয়ে উচ্ছেদে বাধা সৃষ্টি করে। আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক যদি নির্দেশ দেয়, তাহলে আরও বেশি বাহিনী নিয়ে অভিযান শুরু হবে।

আবদুল্লাহ আল মনসুর জানান, উচ্ছেদের বিষয়টি মাইকিং করে আগে থেকেই বাসিন্দাদের জানানো হয়েছিল।

Comment