No icon

নিখোঁজ যুবলীগ নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ নড়াইলে

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা শাখা যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলামের (২৮) লাশ গতকাল বুধবার সকালে উদ্ধার হয়েছে। নড়াইল সদর উপজেলার সীতারামপুলের দূর্বাজুড়ি এলাকার নড়াইল-যশোর সড়কের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিত রায় এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করে এর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত বলে দাবি করেছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিহত তরিকুল বাঘারপাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলার জামদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাজারে সারের ব্যবসা  করতেন তিনি।

তরিকুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম রাস্তার মোড়ে টায়ার ও কাঠে আগুন দিয়ে যশোর-নড়াইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিক্ষোভ চলছিল। সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তরিকুলের চাচা ওমর আলী বিশ্বাস জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন লোক জামদিয়া হাটখোলা বাজারের সারের দোকান থেকে তাঁর ভাতিজাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি বাঘারপাড়া থানার পুলিশকে জানানো হয়। এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে বাঘারপাড়া, যশোর, নড়াইলসহ বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়েও তরিকুলের খবর পাননি তাঁরা।

এ বিষয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছিলেন তাঁর বাবা মিজানুর রহমান। সকালে লাশ উদ্ধার হওয়ায় সেই সংবাদ সম্মেলন হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে সড়কের পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ বলেছে, এলাকার লোকজনই লাশটি তরিকুলের বলে শনাক্ত করে।

নড়াইল সদর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্বৃত্তদের হাতে অপহরণের পাঁচ দিন পর যশোরের জামদিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ লাশ নড়াইলের দূর্বাজুড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ওসি আরো জানান, নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তরিকুলের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য রণজিত রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাশ গোসলের সময় তরিকুলের হাতে হ্যান্ডকাফের দাগ দেখা গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ তিনি আরো বলেন, বাঘারপাড়া থানার ওসির পরিকল্পনায় দারোগা দেবাশীষ ও শাহ আলম তরিকুলকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় নড়াইলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিল। ওসি নাটক করে জিডি না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। যশোরের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জিডি নিতে বললেও বাঘারপাড়া থানার পুলিশ নেয়নি বলে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন।

তবে বাঘারপাড়া থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ অবাস্তব, মিথ্যা। গত ৩ আগস্টের ঘটনায় তিনি যে অফিসারদের দায়ী করছেন, আমি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে জিডি নিতে বললে আমি কেন নেব না?’

পুলিশ বলছে, তরিকুলের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় মারামারির এবং যশোর কোতোয়ালি থানায় মাদক মামলা রয়েছে।

তরিকুলের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শুনেছি, তারা (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) আমার ছেলেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি মা হিসেবে জানি আমার ছেলে কোনো সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতি ছিল না। ছেলে যদি কোনো অন্যায় করে থাকত, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার করা যেত।’

বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। তবে তাকে যারা গুলি করে মারল আমি তাদের বিচার চাই।’

তরিকুলের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর সংগঠন উপজেলা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাজিব রায় বলেন, ‘তরিকুল একজন ভালো সংগঠক ছিলেন। আমরা বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’ সংসদ সদস্য রণজিত রায়ের ছেলে রাজিব আরো বলেন, ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বাঘারপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক।’

 

Comment