Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম
রাজশাহীতে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু
Sunday, 21 Jan 2018 09:35 am
Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মকলেছুর রহমান নামের আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের পাঁচ দিন পর আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত মকলেছুর রহমান উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের বাদুড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সকালে ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপক্ষে ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম ওরফে রতন এবং অন্য পক্ষে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকার। সংঘর্ষে দুই পক্ষের চারজন আহত হয়। আহতরা হলেন শফিউল আলম ও তাঁর সহযোগী ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন এবং অপর পক্ষের দুলাল সরকার ও তাঁর সহযোগী মকলেছুর রহমান। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার উন্নতি হলেও অবনতি হতে থাকে মকলেছুর। অবশেষে আজ দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ইউসুফপুরে নিজ বাড়িতে মকলেছুরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে নিহতের বাড়িতে উপস্থিত হন বাঘা-চারঘাট আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

নিহত মকলেছুরের স্ত্রীর বড় বোন শিউলী খাতুন বলেন, ‘আমার বোনের ছোট ছোট তিনটি সন্তান আছে, তাদের এখন কী হবে? তার দায়িত্ব কারা নেবে? আর কারও সঙ্গে যেন এমন না হয়। যারা আমার বোনের স্বামীকে হত্যা করল আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলমের মোবাইল ফোনে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিহতের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিহতের পক্ষে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। এখনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।