A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: newsPosition

Filename: models/Write_setting_model.php

Line Number: 188

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Write_setting_model.php
Line: 188
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Print_article.php
Line: 11
Function: home_category_position

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম
Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফরমেশনের যত সুবিধা-অসুবিধা
Tuesday, 12 Jun 2018 11:12 am
Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

তিতে পুরোদস্তুর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ধারক-বাহক সাম্বা ফুটবলের অনুসারী। তাঁর অধীনে ব্রাজিলের খেলাতেই সেটির ছাপ স্পষ্ট। ব্রাজিল কেবল ম্যাচ জিতছেই না, দর্শকদের মন ভরানো ফুটবলও খেলছে। বিশ্বকাপেও এই দুর্দান্ত ব্রাজিলকে দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সেলেসাও সমর্থকেরা। রাশিয়ায় তিতের ফরমেশন কী হবে, কোনটি হবে প্রথম একাদশ, খেলার কৌশল কী হবে—সেই ধারণা দেওয়া হলো।

তিতের পছন্দের ফরমেশন ৪-৩-৩। ফুটবলের বহুল প্রচলিত এই ফরমেশনটি আক্রমণ, মাঝমাঠ এবং রক্ষণে সামঞ্জস্য ধরে রাখে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের অধিকাংশ ফুটবলারই ইউরোপের ক্লাবগুলোতে খেলে থাকেন। ইউরোপিয়ান ফুটবল এবং লাতিন ফুটবলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তিতের সামনে। খেলোয়াড়দের পুরোপুরি ব্রাজিলিয়ান ঘরানায় অভ্যস্ত না করিয়ে বরং ইউরোপিয়ান এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল দর্শনের মিশেল ঘটিয়েছেন তিনি। ফলও পাচ্ছেন হাতেনাতে।

তিতের কৌশলের মূল চাবিকাঠি একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার। যিনি নিজেদের ডি-বক্সের আশপাশেই থাকবেন এবং প্রতিপক্ষের পাসিং লেন বন্ধ করাই হবে তাঁর কাজ। এ কাজটি করবেন ফার্নান্দিনহো। এ ছাড়া দলে আছেন কাসেমিরো, প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড়কে অচল করে দেওয়াই যাঁর কাজ। মিডফিল্ডে আক্রমণ নষ্ট করতেও কাসেমিরোর ওপরই আস্থা রাখবেন তিতে।

ব্রাজিল দলের হৃৎপিণ্ড হতে যাচ্ছেন ফিলিপ কুতিনহো। প্লে-মেকিংয়ের দায়িত্ব থাকবে কুতিনহোর ওপর। তাঁর ড্রিবলিং, পাসিং, দূরপাল্লার শটে গোল করার ক্ষমতা এবং ডিফেন্সচেরা ফাইনাল পাস দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে; যা ডিফেন্সিভ খেলা দলগুলোর সঙ্গে ব্রাজিলের জন্য চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে।

গত এক যুগ ধরে ব্রাজিলের শঙ্কার জায়গা ছিল তাঁদের নম্বর নাইন পজিশনটি। রোনালদো নাজারিও ডি লিমার বিদায়ের পর মানসম্পন্ন কোনো নম্বর নাইন পায়নি তাঁরা। তবে এবারের দলে একজন নন, দুজন বিশ্বমানের নম্বর নাইন রয়েছেন। একজন হলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, তিতে নিজে তাঁকে বিশেষ নজরে দেখেন। বয়স মাত্র ২১ হলেও জেসুস ইতিমধ্যে জানান দিয়েছেন নিজের সামর্থ্যের। নেইমার, কুতিনহো, মার্সেলোদের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগাতে ডি-বক্সে ওত পেতে থাকবেন জেসুস।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশঅপরজন রবার্তো ফিরমিনো। ফিরমিনোর ঘরানার নম্বর নাইনদেরকে ফুটবলীয় ভাষায় বলা হয় ‘ফলস নাইন’। যাঁরা সতীর্থদের সুযোগ তৈরির অপেক্ষায় না থেকে নিজের পজিশন থেকে একটু নিচে এসে সুযোগ তৈরি করে নেন। লিভারপুলের হয়ে গেল মৌসুমজুড়ে ফিরমিনো ফলস নাইন পজিশনে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। জেসুসের সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পেতে লড়বেন ফিরমিনো।

ব্রাজিলের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা হলো তাদের বাম দিক। যেখানে আছেন মার্সেলো ও নেইমার। মার্সেলো পজিশন অনুযায়ী লেফট ব্যাক হলেও আদতে তিনি আক্রমণ করতেই বেশি পছন্দ করেন। মার্সেলোর ওপরে উঠে আসার ফলে নেইমার নিজের বাম উইং পজিশন থেকে সরে মাঝে চলে আসার সুযোগ পাবেন। যার ফলে নেইমারকে মার্ক করা ডিফেন্ডার তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সরে যাওয়ায় সেখানে জায়গা তৈরি হবে। যেটি কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠে আসতে পারবেন কুতিনহো। জেসুস কিংবা ফিরমিনো—যে-ই খেলুন না কেন, অতিরিক্ত জায়গা পেয়ে যাবেন তাঁরাও। একই কথা ডান দিক থেকে আক্রমণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ডগলাস কস্তা কিংবা উইলিয়ান—যিনিই খেলুন, দুজনেরই সামর্থ্য রয়েছে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ফেলার।

ব্রাজিলের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে আছেন নেইমার, কুতিনহো, মার্সেলোব্রাজিলের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে আছেন নেইমার, কুতিনহো, মার্সেলোতিতের হাতে প্ল্যান ‘বি’ হিসেবে থাকবেন গোলকিপার এডারসন! প্রতিপক্ষ যদি রক্ষণাত্মক মানসিকতার হয়, সে ক্ষেত্রে অ্যালিসনকে গোলকিপিং পজিশনে খেলাবেন তিতে। প্রতিপক্ষ যদি হয় আক্রমণাত্মক এবং হাই প্রেসিং, তখন তিতে খেলাবেন এডারসনকে। হাই প্রেসিংয়ের বিপক্ষে এডারসনের সফল পাস দেওয়ার সামর্থ্য এ ক্ষেত্রে তাঁকে এগিয়ে রাখবে।

ব্রাজিলের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা যদি হয় তাদের বাম দিক, তাহলে সবচেয়ে দুর্বল জায়গাও তাদের বাম দিক। কারণ মার্সেলোর অতিরিক্ত আক্রমণ করার প্রবণতা তাঁর পেছনে অনেক জায়গা তৈরি করে। নেইমার রক্ষণে খুব একটা পারদর্শী নন। যার ফলে প্রতিপক্ষ যদি মার্সেলো ওপরে থাকা অবস্থায় বলের দখল নিতে পারে, তাহলে বাম দিক থেকে প্রতি আক্রমণে গোল হজম করার সম্ভাবনা থাকবে ব্রাজিলের। হাই প্রেসিং দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রক্ষণ বেশ সমস্যায় পড়তে পারে। দুই মূল সেন্টার ব্যাক থিয়াগো সিলভা এবং মিরান্ডা দুজনের বয়সই ৩৩। খুব বেশি গতিশীল না হওয়ায় প্রতিপক্ষের গতিশীল স্ট্রাইকারদের বিপক্ষে সমস্যার সম্মুখীন হবেন তাঁরা। কাসেমিরো যেমন প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করতে ওস্তাদ, উল্টোভাবে হাই প্রেসিং দলগুলোর বিপক্ষে তিনি প্রচুর ভুল করে থাকেন। সৃষ্টিশীল না হওয়ায় প্রেসিংয়ের সময় কাসেমিরোর ভুল পাস ব্রাজিলের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

নিজেদের দুর্বলতাগুলো ঢেকে, সব বাধা পেরিয়ে ব্রাজিল যদি নিজেদের দর্শন ধরে রেখে ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে তাদের স্বপ্নের হেক্সা মিশন পূরণ হতে পারে এবারই। ২০১৪ বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ভুলতে যেটির বিকল্পও নেই ব্রাজিলিয়ানদের কাছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো