A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined variable: newsPosition

Filename: models/Write_setting_model.php

Line Number: 188

Backtrace:

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/models/Write_setting_model.php
Line: 188
Function: _error_handler

File: /home/sottokonthonews/public_html/application/controllers/Print_article.php
Line: 11
Function: home_category_position

File: /home/sottokonthonews/public_html/index.php
Line: 316
Function: require_once

Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম
Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম
নৌকার মাঝি হতে চান চারজন
Saturday, 01 Sep 2018 06:25 am
Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

Sottokonthonews.com || সত্যকণ্ঠ নিউজ ডটকম

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান অনেকে। তবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন দুজন। মাঠপর্যায়ে অবশ্য এখন পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে প্রকাশ্য কোন্দল নেই। এ ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বিএনপি। দলটিতে পক্ষ-বিপক্ষ আছে ঠিকই, তবে নির্বাচনের মাঠে আছেন একজনই।
এ অবস্থা মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের। ২ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদের ২৩৮তম এই আসন। মোট ভোটার ৪ লাখের বেশি।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সাবেক চিফ হুইপ এম আব্দুস শহীদ। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি পান ৭৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন আব্দুস শহীদ।

আ.লীগে দুজনের প্রতিযোগিতা
আব্দুস শহীদ মৌলভীবাজার-৪ আসনে টানা পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন তিনি। বিভিন্ন উন্নয়নকাজ উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ এলাকায় বড় বড় অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন।
সাংসদ আব্দুস শহীদ প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ হিসেবে সব সময় তিনি সরকারি এবং জনগণের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন। তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। এবারও তিনি জিতবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।
তবে এবার কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুর রহমান তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আব্দুস শহীদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদও বলছেন, বর্তমানে এই দুই নেতাকে নিয়ে দুই উপজেলায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। তবে শহীদের পক্ষেই বেশি নেতা-কর্মী আছেন। বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে খুব সহজে জয় নিশ্চিত করতে এখানে আব্দুস শহীদের বিকল্প নেই।

সাংসদবিরোধী পক্ষ আবার নানা অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলছেন, আগামী নির্বাচনে দল আব্দুস শহীদকে মনোনয়ন দেবে না বলে তাঁদের বিশ্বাস। সাংসদের বিরুদ্ধে এই পক্ষের অভিযোগ হলো, পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত হলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা; আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগে বিভক্তি সৃষ্টি; নিজের ভাইদের প্রতিষ্ঠিত করতে দলের বিভিন্ন পদে বসানো; নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি; সরকারি টাকায় নিজের নামে সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়া; জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির টাকায় নিজের বাড়িতে গ্যাস-সংযোগ নেওয়া এবং চা-শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নকে বিভক্ত করা ইত্যাদি।
কমলগঞ্জের সন্তান মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এ এস এম আজাদুর রহমান বলেন, টানা পাঁচবার সাংসদ হওয়ায় আব্দুস শহীদের মধ্যে একগুঁয়েমি ভাব চলে এসেছে। তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। নানা বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় চলতি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কোনো দায়িত্বশীল পদ দেননি। তাঁর বিশ্বাস, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এ আসনে রফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেবেন।
রফিকুর রহমান বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। মনোনয়নের মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তিনি। দুই উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন। রফিকুর বলছেন, জনগণ পরিবর্তন চায় বলেই তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন। নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভসহ নানা ঘটনা সামনে আনছেন। রফিকুর প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে অত্যন্ত আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে বিজয়মালা আওয়ামী লীগকে উপহার দিতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় আরও আছেন রণধীর কুমার দেব। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা। আরও আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হরিপদ রায় এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক। এই তিনজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

বিএনপিতে একক প্রার্থী
দেশের বেশির ভাগ চা-শ্রমিকের বসবাস মৌলভীবাজার-৪ সংসদীয় এলাকায়। চা-শ্রমিকেরা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে সব সময় নৌকা প্রতীক সহজেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়ে যায়। বিএনপি বা অন্য দল খুব সামান্যই ভোট পায়।
তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগের এই দুর্গেও প্রায় ৮০ হাজার ভোট ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। দলটির আর কোনো প্রার্থী এখানে কখনো এত ভোট পাননি।
মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি আগামী নির্বাচনেও এ আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত অবস্থানে আছেন। মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সব নেতা-কর্মীর সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হবেন। সুষ্ঠু ভোট হলে এবার আসনটি জিতে দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও রয়েছে দলীয় কোন্দল। মতের অমিল থাকায় নেতা-কর্মীদের একাংশ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর কাছ থেকে দূরে রয়েছেন। অনেক নেতা-কর্মী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য মহসীন মিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।
তবে মহসীন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এ মুহূর্তে তিনি কোনো চিন্তাভাবনা করছেন না।

অন্যান্য দল
জাসদ (ইনু) থেকে দলটির শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সভাপতি হাজি এলামান কবীর এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সভাপতি কামাল আহমেদ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। দুজনই নানাভাবে প্রচারণায় আছেন।