No icon

দ্রৌপদী সম্মেলন!

যে ঘটনা ঢাকার মঞ্চে কখনো ঘটেনি, সেটাই ঘটতে যাচ্ছে এবার। দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের দ্রৌপদী চরিত্ররা এক হচ্ছেন। এক মঞ্চে একত্রে দেখা যাবে তাঁদের ওই নিত্যপুরাণেই। ১৮ বছর ধরে নাটকটির এই একটি চরিত্রে কাজ করেছেন চারজন নারী। তাঁদের নিয়ে নির্দেশকের চমক এই ‘দ্রৌপদী সম্মেলন’।

‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের দ্রৌপদী চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন শিরিন খান মনি। পরে চরিত্রটিতে অভিনয় করেন নাজনীন হাসান চুমকি। একসময় তিনিও ব্যস্ত হয়ে পড়েন টেলিভিশনের কাজে। পরে এ চরিত্রে যুক্ত হন বন্যা মির্জা এবং সব শেষ দ্রৌপদী হন সুষমা সরকার। সম্প্রতি নির্দেশকের মাথায় খেলে যায় চমৎকার এক আইডিয়া। এই চার দ্রৌপদীকে এক করলে কেমন হয়!

কিন্তু কীভাবে? নানা বর্ণে এই চার দ্রৌপদীর দেখা মিলবে মঞ্চে। এক এক রূপে এই চারজন এসে হাজির হবেন। এর জন্য চিত্রনাট্যে কোনো পরিবর্তন করতে হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ‘সামান্য পরিবর্তন করতে হয়েছে। সেটা সংলাপে। এক এক বর্ণে তাঁরা যখন আসবেন, তাঁদের সংলাপগুলো বদলেছি শুধু।’

‘নিত্যপুরাণ’ তো পেলেন চারজন দ্রৌপদী, কিন্তু কার কথা ভেবে নাট্যকার লিখেছিলেন আখ্যানের চরিত্রটি? মাসুম রেজা বলেন, ‘শিরিন খান মনিকে ভেবেই আখ্যানের এ চরিত্রটি লিখেছিলাম। দলের সঙ্গে থাকলে এ রকমটা হয়। পরে অবশ্য তিনি অনিয়মিত হয়ে পড়েন।’

নতুন এ আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে কেমন লেগেছে? তিনি বলেন, ‘রোমাঞ্চকর। আমি নিজেই অভিভূত। বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করার পর থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি। আশা করছি শো ভালো হবে, দর্শকেরাও আনন্দ পাবেন।’

সর্বশেষ ‘দ্রৌপদী’ সুষমা সরকার। এর আগের প্রদর্শনীগুলোতে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। নির্দেশকও দারুণ তুষ্ট তাঁর প্রতি। তবে চার দ্রৌপদীকে নিয়ে অন্য রকম এক আশাবাদ লক্ষ্য করা গেছে নাট্যকারের ভেতরে।

চার দ্রৌপদীকে নিয়ে আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটারে মঞ্চস্থ হবে ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের দুটি প্রদর্শনী। একটি বিকেল সাড়ে চাটায় ও আর একটি সন্ধ্যা সোয়া সাতটায়।

Comment