No icon

গাজায় হাসপাতালে আহতদের ঢল

ফিলিস্তিনিদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ছিল মহাবিপর্যয়ের দিন (নাকবা দিবস)। গত সোমবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় দিবসটি আরও গভীর শোকে রূপ নেয়। সবচেয়ে বড় ধকল সামলাতে হচ্ছে গাজার প্রধান হাসপাতাল আল-সাফিয়া হাসপাতালকে। সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই রোগী ও শোকার্ত স্বজনদের ঢল নেমেছে ওই হাসপাতালে। জায়গা না পেয়ে আহত ব্যক্তিদের অনেকেই হাসপাতালের করিডরে আশ্রয় নিয়েছে।

তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে গাজায় ইসরায়েলে হামলায় গতকাল পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। ২০১৪ সালের পর এক দিনে এত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম। ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা বলেছেন, সহিংসতায় নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে এ ইসরায়েল বাহিনী অন্তত ১০৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে ১২ হাজার। গতকাল ৭০ তম নাকাবা দিবসেও বিক্ষোভের খবর মিলেছে। গতকালও ইসরায়েলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

এবার সংঘাত যে কতটা ভয়াবহ, তা দেখা যায় আল-সাফিয়া হাসপাতালে গিয়ে। সেখানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা জটলা পাকিয়ে অপেক্ষা করছেন। সার্জনেরা যখন অস্ত্রোপচারকক্ষে একটার পর একটা অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত, তখন করিডরে লাইন দিয়ে আছেন আরও অনেক আহত ব্যক্তি।

আল-সাফিয়ার জরুরি বিভাগের প্রধান আইমান আল সাহাবানি বলেন, ‘হাসপাতালে অন্তত ১৮ জন মারা গেছে। হাসপাতালের সক্ষমতা যতটুকু, তার চেয়ে অনেক ছাড়িয়ে গেছে। একবারে ৫০০ জনকে গ্রহণ করি আমরা।’ গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে অধিকাংশ গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূত প্রত্যাহার
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাঁর শীর্ষ দূত হুসাম জুমলতকে গতকাল প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁকে ফিলিস্তিনে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘে গতকাল ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে। ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গত সোমবার গাজায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি রিয়াদ মনসুর। এর জবাবে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ডেনি ড্যানন বলেন, সোমবার ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভে নামেনি, তারা যা করেছে সেটা সহিংস দাঙ্গা। হামাসই তাদের লোকজনকে জিম্মি করে এ কাজ করেছে।

বিশ্বজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া 
ইসরায়েলের এই হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে। জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে ফ্রান্স। যুক্তরাজ্যও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল সময়ে ভুল কার্ড খেলেছে। গাজায় প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভিয়েনায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গাজা থেকে এত মানুষ হত্যার যে খবর আসছে, তাতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন।’

এদিকে গাজায় ফিলিস্তিনি হত্যায় স্বাধীন ও নিরক্ষেপ তদন্ত করার দাবি জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা কুয়েতের একটি প্রস্তাব আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর আরব লিগ এই ঘটনায় ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো 

Comment