No icon

এশিয়া

মালদ্বীপে হস্তক্ষেপে নাশিদের আহ্বান

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ বলেছেন, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের কর্মকাণ্ড সবই অবৈধ। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে এবং তাঁকে পদচ্যুত করতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রয়টার্স ও এএফপির খবরে জানানো হয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মালদ্বীপের প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে ২০১৫ সালে দেশটির একটি আদালত ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। ২০১২ সালে তখনকার ফৌজদারি আদালতের প্রধান বিচারক আবদুল্লাহ মোহাম্মদকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন নাশিদ।

কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে ২০১৬ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে নাশিদ যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় আছেন।

২০১২ সালে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা নাশিদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মালদ্বীপে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। ২০১৩ সালের নির্বাচনে নাশিদকে হারিয়ে ক্ষমতায় বসেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন।

নাশিদ বারবার ইয়ামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন। একই সঙ্গে নির্বাসন থেকে ফিরে এ বছরের শেষ দিকে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছেন।

গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত বলে অভিযোগে কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নয়জন নেতাকে মুক্তির আদেশ দেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদও রয়েছেন। কিন্তু ইয়ামিন আদালতের আদেশ না মেনে উল্টো জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতিসহ দুই বিচারপতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মালদ্বীপের গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রথম নেতা নাশিদ আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন অবৈধভাবে সামরিক শাসন জারি করেছেন এবং দেশকে ছারখার করে দিচ্ছেন। তাঁকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

নাশিদ তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লিখেছেন, মালদ্বীপের লোকজনের পক্ষ থেকে আমরা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্ত করতে ভারতকে সেনাসমর্থিত বাহিনী পাঠানোর জন্য আন্তরিক অনুরোধ করছি।’ একই সঙ্গে তিনি মালদ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আহ্বান জানান।

Comment