No icon

মাদকের পাতালঘর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে একটি বিলাসবহুল ভবনের নিচে ‘পাতালঘরে’র সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ঘরে মাদকদ্রব্য রাখার পাশাপাশি মাদক সেবনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘরটি বিশেষ উপায়ে তৈরি করা। ভবনে ঢুকে পাতালঘরের অস্তিত্বের বিষয়টি বাইরের কেউ সহসা বুঝতে পারবে না। ভবনের বারান্দা ও দরজার গ্রিলগুলো বিশেষ কায়দায় বানানো। গ্রিলগুলো স্বল্প সময়ে খোলা যায়, আবার লাগিয়ে রাখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনামাফিক ভবনটি তৈরি করেছে দিনমজুর বিল্লাল হোসেন।

বছরখানেক আগে বিল্লাল হোসেন দিনমজুরির কাজ ছেড়ে দিয়ে বিলাসবহুল ভবনটি তৈরি করেছে। গত শনিবার বিকেলে অভিযান পরিচালনাকালে ওই পাতালঘরের সন্ধান পায় আখাউড়া থানার পুলিশ। এ সময় ঘরের মালিক বিল্লাল হোসেন জানালা খুলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে তার স্ত্রী শেফালি বেগমকে ১৫ বোতল ফেনসিডিল ও ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, বিল্লাল হোসেন একসময় দিনমজুরের কাজ করত। বছরখানেক ধরে এ কাজে যায় না। তবে এরই মধ্যে বাড়িতে দালানঘর তোলায় এলাকার মানুষের মনে তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিল্লালের চলনবলনেও পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বিল্লাল ছোটখাটো মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে বলে অনেকের কাছে খবর আসে। তবে তার দালানঘরের ভেতর এমন ‘পাতালঘর’ থাকার কথা শুনে এলাকার মানুষও হতবাক।

অভিযানে অংশ নেওয়া আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আরিফুল আমীন জানান, বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে মাদক থাকার খবরে অভিযান চালানো হয়। তার দালানঘরের ভেতর মেঝেতে একটি লোহার ঢাকনা দেখে সন্দেহ হয়। ঢাকনা খুলে দেখা যায়, একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করা। এর ভেতর দিয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিচে আরেকটি কক্ষ রয়েছে। ওই কক্ষটিতে একটি টেবিল রাখা। রয়েছে সিলিং ফ্যান, বাতি ও অ্যাডজাস্ট ফ্যান। তার ঘরে লাগানো গ্রিলগুলো একটু ভিন্ন ধাঁচের। কৌশলে তা খোলা যায়। মূলত অভিযানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার জন্যই এমনভাবে গ্রিল তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিল্লাল হোসেনের সুড়ঙ্গ পথটি এখনো নির্মাণাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, নিচ দিয়ে পালিয়ে যাওয়া যাবে এমন পথ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। এ বিষয়ে তার স্ত্রী মুখ ফুটে কিছু বলছে না। মাটির নিচের কক্ষটিতে তার স্বামী মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিত বলে ওই নারী দাবি করেছে। তবে ওই পাতালঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

আখাউড়া থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন তরফদার বলেন, ‘আখাউড়াতে এমন ঘর আরো একাধিক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সব কিছু নিশ্চিত হয়ে সেসব জায়গায় অভিযান চালাতে। যাদের সহযোগিতায় তারা মাদক কারবার করছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’

সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ 

 

Comment