No icon

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা

জামালপুর সদর উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিশোরীর পরিবার। এক ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির নেতৃত্বে সাতজন এ ঘটনায় জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

গতকাল শনিবার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন মো. ছাব্বির হোসেন আকন্দ (২৩), মোহাম্মদ রিফাত (২২), মো. বাবু মিয়া (২৪), মো. মিনহাজ (২৩), মো. শাকিল (২৩) এবং অজ্ঞাত দুজন।

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা ওয়াজ মাহফিলে যান। নারীদের জন্য সেখানে বিশেষ স্থান ছিল। ওই ছাত্রী রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাহফিলের পাশে ভাপা পিঠা কিনতে বের হয়। এ সময় যুবলীগের নেতা মো. ছাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে ওই সাতজন যুবক তাকে জোর করে মুখ বেঁধে পাশের একটি ধানখেতের সেচপাম্প ঘরে নিয়ে যান। এরপর পালাক্রমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর তাঁরা ওই ছাত্রীকে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয় এক যুবকের সহযোগিতায় ওই ছাত্রী বাড়িতে আসে। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালেও গতকাল শনিবার রাতে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. ছাব্বির হোসেন আকন্দ ওরফে সেতুকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমরা দরিদ্র মানুষ। অনেক কষ্টে মেয়েটিকে লেখাপড়া করাচ্ছি। কয়েক দিন পর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে নরপশুরা ওয়াজ মাহফিল থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে এ অবস্থা করেছে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা অনেক প্রভাবশালী ঘরের ছেলে। মেয়েকে ঘটনার সময় এসব বিষয়ে কাউকে জানালে হত্যা ও ভিডিও এবং ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কি বিচার আছে? মেয়েটি এখন কীভাবে পরীক্ষা দিতে যাবে।’ তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

ওই ছাত্রী প্রথম আলোকে বলে, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। যুবলীগ নেতা সেতু চড়-থাপ্পড় ও তাঁর কোমরের বেল্ট খুলে তাকে ব্যাপক মারধর শুরু করে। প্রথমে সেতু ও পরে মোহাম্মদ রিফাত ধর্ষণ করেন। অন্যরা ওই সব ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলে। রাত দুইটার পর্যন্ত তারা আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করেন। তাঁদের অনেক পায়ে-হাতে ধরেও রক্ষা পাইনি। এসব বিষয় কাউকে জানালে ভিডিও এবং ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’

জামালপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অপকর্মের দায় যুবলীগ নেবে না। ইতিমধ্যে তাঁকে সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার এবং ওই ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।’

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘ওই ছাত্রীর চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) নাছিমুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে আসামিদের ধরতে কয়েকবার ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সবাই পালিয়েছেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের ধরে ফেলা হবে।’

Comment