No icon

নতুন রোনালদো আর সোনালি প্রজন্ম পেয়ে গেছে পর্তুগাল

বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইউরোপে দারুণ চমক দেখাচ্ছে পর্তুগাল। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ আর ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে তারা। এবারের চ্যাম্পিয়ন দলটিতে অন্তত দুজন আগামীর রোনালদো হতে পারেন

কী এক রোমাঞ্চকর ম্যাচটাই না হলো! ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। ইতালি ২-২ করে ফেলল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে পর্তুগাল আবার ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে। সেটা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৩-৩!

ম্যাচটি পেনাল্টিতে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু ২ মিনিট পরেই পর্তুগাল এগিয়ে গেল ৪-৩ গোলে। সাত গোলের রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল। এর মধ্যে তিনটা গোলই অতিরিক্ত সময়ে। ১০৪ থেকে ১০৯ মিনিটের মধ্যে! গত রোববার এমন রোমাঞ্চকর ফাইনালই দেখল অনূর্ধ্ব ১৯ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। বড়দের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা। ছোটদের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নও এখন পর্তুগাল।

শুধু এই চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুটই নয়, বলা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্টের মধ্যে দিয়ে পর্তুগাল নতুন রোনালদোকে পেয়ে গেছে। তাও এক রোনালদো নয়, জোড়া রোনালদো! পেয়ে গেছে আরও একটি সোনালি প্রজন্মকেও। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে উঠে আসা ফ্রান্সের একঝাঁক প্রতিভা তাদের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে এবার বিশ্বকাপ জিতেছে। পর্তুগালের এই প্রতিভাগুলোকে ঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারলে এঁরাও বড় কিছু এনে দিতে পারে ইউসেবিওর দেশকে।

ফিলিপে এবং ত্রিনকাও, পর্তুগালের নতুন দুই রোনালদো। ছবি: রয়টার্সএই দল নিয়ে এত বড় আশা করার কারণ আছে। দুই বছর আগে প্রায় এই দলটাই অনূর্ধ্ব ১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছিল। অনূর্ধ্ব ১৭ আর অনূর্ধ্ব ১৯ ইউরো টানা জেতার কৃতিত্ব আর কোনো দেশের নেই। কৃতিত্বটা আরও বড় হতে পারত। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেরও ফাইনালে গিয়েছিল পর্তুগাল। যদিও ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ হেরে রানার্সআপ হতে হয় তাদের। না হলে তিনটি ট্রফিই থাকত পর্তুগালের!

তবে এটা নিশ্চিত, পর্তুগাল একঝাঁক নতুন প্রতিভা পেয়েছে। ভালো কাজ করছে তাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল কাঠামো। এবারের টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে যেমন ১৭ গোল করেছে পর্তুগাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা ইতালির চেয়েও ৭ গোল বেশি। শুধু গোল করেছে বলে নয়, দলটির মানসিক দৃঢ়তাও প্রশংসা কুড়োচ্ছে। ফাইনালে যেমন ইতালি দুই মিনিটের মধ্যে (৭৫ ও ৭৬ মিনিটে) দুই গোল পাঠিয়ে দেয় পর্তুগালের জালে। তাতেই খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু এই মানসিক ধাক্কা সামলে নিয়েছে দলটি।

সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন জোয়াও ফিলিপে আর ফান্সিসকো ত্রিনকাও। দুজনই ৫টি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। দুজনের খেলাতেই রোনালদোর ছাপ। দুজনই রোনালদোর মতো লেফট উইংয়ে খেলতে পছন্দ করেন। আবার তরুণ বয়সের রোনালদোর মতোই মাঠের ডান প্রান্তেও খেলেন দলের প্রয়োজনে। জোটা ডাকনামে পরিচিতি ফিলিপে এরই মধ্যে নতুন রোনালদোর তকমা পেয়েছেন। যা খেলেছেন, তাতে এমন উপাধি বাড়াবাড়িও মনে হচ্ছে না। ওদিকে ত্রিনকাওকে ডাকছে জুভেন্টাস, রোনালদোর নতুন ঠিকানা। তাঁকেও চোখে চোখে রাখবে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো।

এদের ঠিকমতো লালন করতে পারলে, ২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে আলাদা নজরে রাখতেই হবে!

সুত্রঃ প্রথম আলো 

Comment