No icon

খেল দেখাতে শুরু করেছে ‘রহস্যময়ী’ উইকেট

  • চট্টগ্রামের উইকেট স্পিন-সহায়ক হতে পারে—এ ধারণাতে দুই দল তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়েছে।
  • কিন্তু প্রথম দিনে উইকেটে প্রত্যাশিত ঘূর্ণি পাননি স্পিনাররা।
  • তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে উইকেটে বল ঘুরতে শুরু করেছে।

লক্ষ্মণ সান্দাকান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই রিভিউ নিলেন। যাঁর বিপক্ষে এলবিডব্লুর আবেদন, সানজামুল ইসলামকেও আত্মবিশ্বাসী দেখাল। বোলার মনে করছেন, ‘অবশ্যই আউট’! ব্যাটসম্যান ঠিক উল্টো, ‘মোটেও না।’ কে সঠিক? সঠিক আসলে আম্পায়ার!

টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল, সান্দাকানের করা ১১২তম ওভারের শেষ বলটা ইন-লাইনে পিচ করলেও বাঁক খেয়ে সেটি বেরিয়ে যেত লেগ স্টাম্পের বাইরে। সকাল সকাল আম্পায়ার রড টাকারের ভালো সিদ্ধান্তে শ্রীলঙ্কানদের মন খারাপ হলেও নিশ্চয়ই খুশি বাংলাদেশ। না, শুধু উইকেটটা অক্ষত থাকার আনন্দে নয়, বাংলাদেশের খুশি হওয়ার কথা উইকেটের আচরণ দেখেও। উইকেট যে তার খেল শুরু করেছে!

কাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলন শেষে ড্রেসিংরুমের পথে একজনের সঙ্গে দেখা তামিম ইকবালের। ভদ্রলোক গভীর মনোযোগে উইকেট দেখছিলেন। বাংলাদেশ ওপেনারের সঙ্গে কী কথা হলো তাঁর, দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। তবে অনুমান করা যায়, প্রশ্নটা হয়তো শুনতে হয়েছে তামিমকে, ‘উইকেট নিয়ে কী বুঝলে?’ ভদ্রলোক হচ্ছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, শ্রীলঙ্কার বর্তমান কোচ।

উইকেট নিয়ে তামিম তখন খানিক আগেই সংবাদমাধ্যমকে বলে গিয়েছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছিল প্রথম দিনেই বল ঘুরবে। আমরা ভাগ্যবান যে আগে ব্যাটিং করছি। তারা ব্যাটিংয়ে আসার পরই যেন বল ঘুরতে থাকে।’ অতটা যেতে হয়নি, আজ সকাল থেকেই উইকেট ধীরে ধীরে ‘খোলস’ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ‘ফ্ল্যাট’ রূপ বদলে ব্যাটসম্যানদের জন্য ‘কঠিন’ হতে চলেছে।

উইকেট সামনে কঠিন হবে, এটা ধরে নিয়েই ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকা মুমিনুল হক কালই সম্প্রচার কর্তৃপক্ষকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য ৫০০-৫৫০ রান করা। এই উইকেটে ৭ উইকেটে ৪৬৭ রান তুলে লাঞ্চে যাওয়া বাংলাদেশ সেটি করতে পারবে কি না, সংশয় আছে। তবে তার চেয়ে বড় অশনিসংকেত শ্রীলঙ্কার জন্য। এমনিতে মাথায় থাকবে বাংলাদেশের চাপিয়ে দেওয়া রানের বোঝা, ব্যাটিং করতে হবে আবার কঠিন উইকেটে।

দিনের শুরুতেই শ্রীলঙ্কান স্পিনাররা বড় টার্ন পেয়েছেন। উইকেট হয়ে যাচ্ছে মন্থর। পেসাররাও কখনো অপ্রত্যাশিত বাউন্স পাচ্ছেন, কখনো সেটিই হয়ে যাচ্ছে নিচু। ৯৬তম ওভারে সুরঙ্গা লাকমাল উইকেটের আচরণ দেখে তো হেসেই দিলেন! যতটা উঠবে ভেবে পুল করতে চেয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, বল সেই উচ্চতায় ওঠেইনি। হালকা ফাটল সকালেই দেখা গেছে। ফুটমার্কে ধুলোও উড়তে শুরু করেছে। ফুটমার্ক ব্যবহার করে বড় টার্নে তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করেছেন প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে বোলিং করা হেরাথ ।

চট্টগ্রামের উইকেট বোলারদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও আজ প্রথম সেশনে যে তিনটি উইকেট পড়েছে, তাতে যতটা না শ্রীলঙ্কান বোলারদের কৃতিত্ব তার চেয়ে বেশি দায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরই। তবে চট্টগ্রামের উইকেট বড় রহস্যময়।

উইকেট দুর্বোধ্য হয়ে যেতে পারে। আবার নির্বিষও যে হয়ে উঠবে না, জোর দিয়ে বলা কঠিন। আপাতত বাংলাদেশের তিন স্পিনারের যে হাত নিশপিশ করছে, তা অবশ্য বলাই যায়।

Comment