No icon

‘বিসিসিআই’ এখনো চালান মোদি!

  • বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বিসিসিআইয়ের ওয়েবসাইট
  • বিসিসিআই ও আইপিএলের ওয়েবসাইট ডোমেইনের মালিক লোলিত মোদি

বিসিসিআইয়ের ওয়েবসাইটে দেশটির জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর টাটকা খবর মেলে। কিন্তু গত শনিবার ভারতীয় যুবাদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের খোঁজখবর নিতে সাইটে গিয়ে তো সমর্থকদের চক্ষু চড়কগাছ। ওয়েবসাইট বন্ধ! অনেকে ভেবে নিয়েছিলেন, হয়তো কোনো কারিগরি ত্রুটি। কিন্তু পরদিনও দক্ষিণ আফ্রিকায় বিরাট কোহলিদের জয়ের খবর সমর্থকেরা সাইটে পাননি। এবারও ওয়েবসাইট বন্ধ। পরে জানা গেল এক অবিশ্বাস্য তথ্য—‘ডোমেইন’ নবায়ন না করায় ওয়েবসাইট প্রায় ২৪ ঘণ্টা জন্য বন্ধ ছিল!

অথচ বিসিসিআই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড। ডোমেইন নবায়ন না হওয়ার তাঁদের সাইট বন্ধ থাকা কিন্তু বেশ লজ্জাজনক ব্যাপার। মজার ব্যাপার হলো, বিসিসিআই ওয়েবসাইটের ডোমেইনের মালিক লোলিত মোদি! অথচ আইপিএলে আর্থিক কারচুপির জন্য ২০১৩ সাল থেকে বিসিসিআইয়ে মোদি নিষিদ্ধ। তাঁর অবস্থান এখন লন্ডনে। দেশের বাইরে থেকেও মোদি যে এখনো বিসিসিআইয়ে অনেক কিছুর নিয়ন্তা, ওয়েবসাইট বন্ধ থাকা ঘটনাই তাঁর প্রমাণ।

২০০৭ সালে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি থাকাকালীন সংস্থাটির ওয়েবসাইটের ডোমেইন নিজের নামে নথিভুক্ত করেছিলেন মোদি। এ ছাড়া আইপিএলের ডোমেইনও তাঁর মালিকানাভুক্ত। ক্রিকইনফোকে বিসিসিআইয়ের এক অফিশিয়াল জানিয়েছেন, মোদি এভাবে প্রায় ১০০ সাইটের ডোমেইনের মালিক হয়েছেন এবং সেগুলো চালানোর খরচ মেটায় স্বয়ং ক্রিকেট বোর্ড।

মোদি কিন্তু অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিসিসিআই ওয়েবসাইটে শুধু ‘কনটেন্ট’ বানানোর খরচটা দেয়। একটি ‘থার্ড পাটি’ (মধ্যস্বত্বভোগী) সেই ‘কনটেন্ট’গুলো বানায় এবং খরচটা তাঁদের পকেটেই যায়। ক্রিকইনফোকে মোদির ভাষ্য, ‘আমি শুধু কনটেন্টের খরচ পেয়ে থাকি, যা ব্যবস্থাপনা করে একটি থার্ড পার্টি, আমাকে তাঁদের খরচ দিতে হয়।’

মোদির দাবি, ২০০৬ সালে একটি তৃতীয় পক্ষ বিসিসিআইয়ের ডোমেইন (বিসিসিআই.কম) বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তখন এ ডোমেইন কিনতে রাজি ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁরা (বোর্ড) বিসিসিআই,টিভি ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমি সার্ভারগুলোর জন্য টাকা দিয়েছি। ওদের (বোর্ড) টাকা নিচ্ছি না। আমি নিজের নামে এমন বহু ওয়েবসাইট নিবন্ধন করেছি। এগুলোর জন্য টাকা দিই, পরিচালনা করি।’

বিসিসিআইয়ে আসার আগে মোদি ওয়েবসাইটের ডোমেইন কেনার ব্যবসায় ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ’ (আইসিএল) ওয়েবসাইটের ডোমেইন কিনেছিলেন আইপিএলের সাবেক এ চেয়ারম্যান। পরে সেই সাইট জি গ্রুপ ব্যবহার করেছে বিতর্কিত আইসিএল আসরের জন্য। মোদি জানিয়েছেন, বিসিসিআই এরপর তাঁর কাছ থেকে আইপিএলের (ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ.আইপিএলটি২০.কম) ওয়েবসাইট কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু মোদি রাজি হননি। তাঁর ভাষ্য, ‘ওঁরা আমাকে নিজের সাইট বিক্রির জন্য জোর করতে পারে না।’

২০১৩ সালে বিসিসিআই থেকে উৎখাত হন মোদি। মুম্বাই উচ্চ আদালতে তাঁর বিপক্ষে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে ওয়েবসাইটের মালিকানা পাওয়ার আরজি করেছিল বিসিসিআই। আদালত এখনো সেই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়নি। আদালতের নির্দেশে তাঁর আগ পর্যন্ত মোদির একটি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সব সাইটের ডোমেইন চালানোর খরচ নির্বাহ করছে বিসিসিআই।

বিসিসিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, মোদি সম্ভবত তাঁর ক্রেডিট কার্ড পাল্টেছেন, এ কারণে বিসিসিআইয়ের পাঠানো টাকা (ডোমেইন নবায়নের জন্য) প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। শনিবার ডোমেইন বন্ধ হওয়ার সঙ্গেই বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে মোদির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মোদি সব ঝামেলা দ্রুত অবসানের নিশ্চয়তা দেন। বোর্ডের সেই সূত্র আরও জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিসিসিআই এ ক্ষেত্রে অসহায়। তাঁর ভাষ্য, ‘আদালতের নির্দেশ চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের ডোমেইন পরিচালনা করবেন মোদি। নবায়নের দায়িত্বও তাঁর।’
তাহলে ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার দায়টাও মোদির ওপরই বর্তায়? কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এ পারিশ্রমিকটা আমার নয়। এটা একটি সাব-এজেন্টের হাত ঘুরে যায়, তাঁর কার্ডে সমস্যা আছে।’

বিসিসিআইয়ের এই ডোমেইন কেনা হয়েছিল ২০০৬ সালে। নবায়নের দিন ছিল এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তা না হওয়ায় ডোমেইন নামটি যে প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্ত, পুনরায় বিক্রির জন্য বিসিসিআইয়ের এই ডোমেইন তাঁরা বাজারে ছেড়ে দেয়। এরই মধ্যে সাতজন এই ডোমেইন নিতে আগ্রহী। সর্বোচ্চ দাম ২৭০ ডলার।

Comment